আত্মশক্তি ফাউন্ডেশন

ভূমিকা গীতার ধ্যান প্রথম অধ্যায় : অর্জুনবিষাদযোগ দ্বিতীয় অধ্যায় : সাংখ্যযোগ তৃতীয় অধ্যায় : কর্মযোগ চতুর্থ অধ্যায় : জ্ঞানযোগ পঞ্চম অধ্যায় : সন্ন্যাসযোগ ষষ্ঠ অধ্যায় : ধ্যানযোগ সপ্তম অধ্যায় : জ্ঞান-বিজ্ঞান-যোগ অষ্টম অধ্যায় : অক্ষর-ব্রহ্মযোগ নবম অধ্যায় : রাজবিদ্যা-রাজগুহ্য-যোগ দশম অধ্যায় : বিভূতিযোগ একাদশ অধ্যায় : বিশ্বরূপ-দর্শনযোগ দ্বাদশ অধ্যায় : ভক্তিযোগ ত্রয়োদশ অধ্যায় : ক্ষেত্র-ক্ষেত্রজ্ঞ-বিভাগযোগ চতুর্দশ অধ্যায় : গুণত্রয়-বিভাগযোগ পঞ্চদশ অধ্যায় : পুরুষোত্তমযোগ ষোড়শ অধ্যায় : দৈবাসুর-সম্পদ-বিভাগযোগ সপ্তদশ অধ্যায় : শ্রদ্ধাত্রয়-বিভাগযোগ অষ্টাদশ অধ্যায় : মোক্ষযোগ গীতা-মাহাত্ম্য
তৃতীয় অধ্যায়

॥ ॐ श्री परमात्मने नमः ॥

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা

अथ तृतीयोऽध्यायः।   कर्मयोगः।

অথ তৃতীয় অধ্যায়
কর্মযোগ

 

॥ ॐ श्री परमात्मने नमः ॥

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা

अथ तृतीयोऽध्यायः।   कर्मयोगः।

অথ তৃতীয় অধ্যায়
কর্মযোগ

 

अर्जुन उवाच

ज्यायसी चेत्कर्मणस्ते मता बुद्धिर्जनार्दन।

तत्किं कर्मणि घोरे मां नियोजयसि केशव॥३-१॥

অর্জুন উবাচ
জ্যায়সী চেৎ কর্মণস্তে মতা বুদ্ধির্জনার্দন।
তৎকিং কর্মণি ঘোরে মাং নিয়োজয়সি কেশব॥ ৩-১

অর্জুন বললেন–হে জনার্দন!যদি আপনার মতে কর্ম হতে সমত্ব-বুদ্ধি শ্রেষ্ঠ, তবে হে কেশব! কেন আমাকে ভয়ানক হিংসাত্মক যুদ্ধে নিযুক্ত হওয়ার জন্য প্ররোচিত করছেন? ৩/২

 

 

व्यामिश्रेणेव वाक्येन बुद्धिं मोहयसीव मे।

तदेकं वद निश्चित्य येन श्रेयोऽहमाप्नुयाम्॥ ३-२॥

ব্যামিশ্রেণেব বাক্যেন বুদ্ধিং মোহয়সীব মে।
তদেকং বদ নিশ্চিত্য যেন শ্রেয়োঽহমাপ্নুয়াম্॥ ৩-২

আপনি যেন বিমিশ্র বাক্যদ্বারা আমার মনকে বিভ্রান্ত করছেন। তাই দয়া করে যা দ্বারা আমি শ্রেয় লাভ করতে পারি সেই একটি পথ আমাকে নিশ্চিতভাবে বলুন। ৩/২

 

 

    श्रीभगवानुवाच

लोकेऽस्मिन् द्विविधा निष्ठा पुरा प्रोक्ता मयानघ।

ज्ञानयोगेन साङ्ख्यानां कर्मयोगेन योगिनाम्॥३-३॥

ভগবান উবাচ
লোকেঽস্মিন্ দ্বিবিধা নিষ্ঠা পুরা প্রোক্তা ময়ানঘ।
জ্ঞানযোগেন সাংখ্যানাং কর্মযোগেন যোগিনাম্॥ ৩-৩

ভগবান বললেন-হে অনঘ অর্জুন! আমি পূর্বে বলেছি, ইহলোকে দুই প্রকার নিষ্ঠা আছে। সাংখ্য দার্শনিকদের জন্য জ্ঞানযোগ এবং কর্মীদের জন্য কর্মযোগ। ৩/৩

 

 

न कर्मणामनारम्भान्नैष्कर्म्यं पुरुषोऽश्नुते।

न च संन्यसनादेव सिद्धिं समधिगच्छति॥३-४॥

ন কর্মণামনারম্ভাৎ নৈষ্কর্ম্যং পুরুষোঽশ্নুতে।
ন চ সংন্যসনাদেব সিদ্ধিং সমধিগচ্ছতি॥ ৩-৪

শুধুমাত্র কর্ম না করলেই মানুষ নৈষ্কর্ম্য লাভ করতে অর্থাৎ কর্ম-বন্ধন হতে মুক্ত হতে পারে না। আবার, কামনা ত্যাগ না করে কর্ম ত্যাগ করলেও সিদ্ধিলাভ হয় না। ৩/৪

 

 

न हि कश्चित्क्षणमपि जातु तिष्ठत्यकर्मकृत्।

कार्यते ह्यवशः कर्म सर्वः प्रकृतिजैर्गुणैः॥३-५॥

ন হি কশ্চিৎক্ষণমপি জাতু তিষ্ঠত্যকর্মকৃৎ।
কার্যতে হ্যবশঃ কর্ম সর্বঃ প্রকৃতিজৈর্গুণৈঃ॥ ৩-৫

কেউই কখনো এক মুহূর্ত কর্ম না করে থাকতে পারে না। কেননা, প্রকৃতির গুণে অবশ হয়ে সকলেই কর্ম করতে বাধ্য হয়। ৩/৫

 

 

कर्मेन्द्रियाणि संयम्य य आस्ते मनसा स्मरन्।

इन्द्रियार्थान्विमूढात्मा मिथ्याचारः स उच्यते॥३-६॥

কর্মেন্দ্রিয়াণি সংযম্য য আস্তে মনসা স্মরন্।
ইন্দ্রিয়ার্থান্বিমূঢ়াত্মা মিথ্যাচারঃ স উচ্যতে॥ ৩-৬

যে ভ্রান্তমতি পুরুষ পঞ্চ-কর্মেন্দ্রিয় (হস্ত, পদ, মস্তক, পায়ু, লিঙ্গ) সংযত করে অবস্থান করেন, কিন্তু মনে মনে ইন্দ্রিয়গুলোর ভোগ্য-বিষয় (রূপ, রস, শব্দ, স্পর্শ, গন্ধ) স্মরণ করে, সে মিথ্যাচারী ভণ্ড। ৩/৬

 

यस्त्विन्द्रियाणि मनसा नियम्यारभतेऽर्जुन।

कर्मेन्द्रियैः कर्मयोगमसक्तः स विशिष्यते॥३-७॥

যস্ত্বিন্দ্রিয়াণি মনসা নিয়ম্যারভতেঽর্জ্জুন।
কর্মেন্দ্রিয়ৈঃ কর্মযোগং অসক্তঃ স বিশিষ্যতে॥ ৩-৭

কিন্তু যিনি মনের দ্বারা জ্ঞানেন্দ্রিয়সমূহ সংযত করেন এবং অনাসক্ত হয়ে কর্মেন্দ্রিয়ের সাহায্যে কর্মযোগের আচরণ করেন, তিনিই শ্রেষ্ঠ। ৩/৭

 

 

नियतं कुरु कर्म त्वं कर्म ज्यायो ह्यकर्मणः।

शरीरयात्रापि च ते न प्रसिद्ध्येदकर्मणः॥३-८॥

নিয়তং কুরু কর্ম ত্বং কর্ম জ্যায়ো হ্যকর্মণঃ।
শরীরযাত্রাপি চ তে ন প্রসিদ্ধ্যেদকর্ম্মণঃ॥ ৩-৮

তুমি নিয়ত শাস্ত্রবিহিত কর্ম কর; যেহেতু কর্মত্যাগ অপেক্ষা কর্ম অনুষ্ঠান করাই শ্রেষ্ঠ। কর্ম না করে তোমার দেহযাত্রাও নির্বাহ হতে পারে না। ৩/৮

 

 

 

यज्ञार्थात्कर्मणोऽन्यत्र लोकोऽयं कर्मबन्धनः।

तदर्थं कर्म कौन्तेय मुक्तसङ्गः समाचर॥३-९॥

যজ্ঞার্থাৎ কর্মণোঽন্যত্র লোকোঽয়ং কর্মবন্ধনঃ।
তদর্থং কর্ম কৌন্তেয় মুক্তসঙ্গঃ সমাচর॥ ৩-৯

বিষ্ণুর প্রতি সম্পাদন করার জন্য কর্ম করা উচিত্ তা নাহলে কর্ম জীবকে জড় জগতের বন্ধনে আবদ্ধ করে। তাই হে কৌন্তেয় ভগবানের সন্তুষ্টি বিধানের জন্যই কেবল তোমার কর্ত্যব্য অনুষ্ঠান কর এবং তার ফলে তুমি সদা সর্বদা জড় জগতের  বন্ধন থেকে মুক্ত থাকতে পারবে।

যজ্ঞার্থ যে কর্ম্ম তদ্ভিন্ন অন্য কর্ম্ম মনুষ্যের বন্ধনের কারণ। হে কৌন্তেয় তুমি সেই উদ্দেশ্যে (যজ্ঞার্থ) অনাসক্ত হইয়া কর্ম্ম কর।

যজ্ঞ তথা ভগবান বিষ্ণুর উদ্দেশ্যেই সকল কর্ম করা উচিত। ভগবানের উদ্দেশ্যে ছাড়া অন্য কর্ম মানুষের জাগতিক বন্ধনের কারণ হয়। তাই হে কৌন্তেয় অর্জুন! তুমি অনাসক্ত হয়ে শুধুমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্যই কর্ম করো।

 

 

सहयज्ञाः प्रजाः सृष्ट्वा पुरोवाच प्रजापतिः।

अनेन प्रसविष्यध्वमेष वोऽस्त्विष्टकामधुक्॥३-१०॥

সহযজ্ঞাঃ প্রজাঃ সৃষ্ট্বা পুরোবাচ প্রজাপতিঃ।
অনেন প্রসবিষ্যধ্বমেষ বোঽস্ত্বিষ্টকামধুক্॥ ৩-১০

সৃষ্টির প্রারম্ভে পরমেশ্বর ভগবান যজ্ঞ সহ প্রজা সৃষ্টি করে বলেছিলেন এই যজ্ঞের দ্বারা তোমরা সর্বদা সমৃদ্ধ হও এই যজ্ঞ তোমাদের সমস্ত অভীষ্ট পুরন করবে।

সৃষ্টির প্রারম্ভে ভগবান প্রজাপতি যজ্ঞের সাথে প্রজা সৃষ্টি করে বলেছিলেন, “তোমরা এই যজ্ঞদ্বারা উত্তরোত্তর সমৃদ্ধ হও। এই যজ্ঞ তোমাদের অভীষ্ট প্রদান করবে।” ৩/১০

 

 

देवान्भावयतानेन ते देवा भावयन्तु वः ।

परस्परं भावयन्तः श्रेयः परमवाप्स्यथ ॥ ३-११॥

দেবান ভাবয়তা অনেন তে দেবাঃ ভাবয়ন্তু বঃ ।
পরস্পরম্ ভবয়ন্তঃ শ্রেঃয় পরম্ অবাপ্সথ ।।১১

দেবান্ ভাবয়তানেন তে দেবা ভাবয়ন্তু বঃ।
পরস্পরং ভাবয়ন্তঃ শ্রেয়ঃ পরমবাপ্ স্যথ।।১১

তোমাদের যজ্ঞ অনুষ্ঠানে প্রীত হয়ে দেবতারা তোমাদের প্রীতি সাধন করবেন। এইভাবে পরস্পরের প্রীতি সম্পাদন করার মাধ্যমে তোমরা পরম মঙ্গল লাভ করবে।

এই যজ্ঞদ্বারা তোমরা দেবগণকে (ঘৃতাহুতি প্রদানে) সংবর্দ্ধনা কর, সেই দেবগণও (বৃষ্ট্যাদি দ্বারা) তোমাদিগকে সংবর্দ্ধিত করুন; এইরূপে পরস্পরের সংবর্দ্ধনা দ্বারা পরম মঙ্গল লাভ করিবে।

The demigods, being satisfied with sacrifices, will also satisfy you. By mutually pleasing each other, you will attain the highest benefit. 3.11

 

इष्टान्भोगान्हि वो देवा दास्यन्ते यज्ञभाविताः ।

तैर्दत्तानप्रदायैभ्यो यो भुङ्क्ते स्तेन एव सः ॥ ३-१२॥

ইষ্টান ভোগান হি বঃ দেবাঃ দাস্যন্তে যজ্ঞ ভাবিতাঃ ।
তৈঃ দত্তান অপ্রদায় এভ্যঃ যঃ ভূঙক্তে স্তেনঃ এব সঃ ।।১২

ইষ্টান্ ভোগান্ হি বো দেবা দাস্যন্তে যজ্ঞভাবিতাঃ।
তৈর্দত্তানপ্রদায়ৈভ্যো যো ভুঙ্ ক্তে স্তেন এব সঃ।।১২

যজ্ঞের ফলে সন্তুষ্ট হয়ে দেবতারা তোমাদের প্রতি বাঞ্চিত ভোগ্যবস্তু প্রদান করবেন। সুতরাং দেবতাদের দেওয়া বস্তু তাদের নিবেদন না করে যিনি ভোগ করেন তিনি নিশ্চয় চোর।

যেহেতু, দেবগণ যজ্ঞাদিদ্বারা সংবর্দ্ধিত হইয়া তোমাদিগকে অভীষ্ট ভোগ্যবস্তু প্রদান করেন, সুতরাং তাঁহাদিগের প্রদত্ত অন্নপানাদি যজ্ঞাদি-দ্বারা তাহাদিগকে প্রদান না করিয়া যে ভোগ করে সে নিশ্চয়ই চোর (দেবস্বাপহারী।

Being satisfied by your performance of sacrifices, the demigods will bestow unto you all the necessities of life. But one who enjoys these gifts without offering them to the demigods is a thief. 3.12

 

यज्ञशिष्टाशिनः सन्तो मुच्यन्ते सर्वकिल्बिषैः ।

भुञ्जते ते त्वघं पापा ये पचन्त्यात्मकारणात् ॥ ३-१३॥

যজ্ঞশিষ্ট অশিনঃ সন্তঃ মুচ্যতে সর্ব কিল্বষৈঃ ।
ভূঞ্জতে তে তু অঘম্পাপাঃ যে পচন্তি আত্মকারণাত্ ।।১৩

যজ্ঞাশিষ্টাশিনঃ সন্তো মুচ্যন্তে সর্ব্বকিল্বিষৈঃ।
ভুঞ্জতে তে ত্বঘং পাপা য পচন্ত্যাত্মকারণাৎ।।১৩

ভগবান ভক্তরা সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত হন কারন তারা ভগবানকে নিবেদন করে অন্নাদি গ্রহন করেন। যারা কেবল সার্থপর হয়ে নিজেদের ইন্দ্রিয় তৃপ্তির জন্য অন্নপাক করে তারা কেবল পাপ ভোজন করে।

যে সজ্জনগণ যজ্ঞাবশেষ অন্ন ভোজন করেন অর্থাৎ দেবতা, অতিথি প্রভৃতিকে অন্নাদি প্রদান করিয়া অবশিষ্ট ভোজন করেন তাঁহারা সর্ব্বপাপ হইতে মুক্ত হন। যে পাপাত্মারা কেবল আপন উদরপূরণার্থ অন্ন পাক করে, তাহারা পাপরাশিই ভোজন করে।

Enlightened individuals are liberated from all types of impiety by accepting the remnants of foodstuffs offered in sacrifice. However, those who only cook for themselves perpetuate their own bondage. 3.13

 

अन्नाद्भवन्ति भूतानि पर्जन्यादन्नसम्भवः ।

यज्ञाद्भवति पर्जन्यो यज्ञः कर्मसमुद्भवः ॥ ३-१४॥

অন্নাত্ ভবন্তি ভূতানি পর্জন্যাত্ অন্ন সম্ভবঃ ।
যজ্ঞাত্ ভবতী পর্জন্যঃ যজ্ঞঃ কর্ম সমুদ্ভব ।।১৪

অন্নাদ্ ভবন্তি ভূতানি পর্জ্জন্যাদন্নসম্ভবঃ।
যজ্ঞাদ্ ভবতি পর্জ্জন্যো যজ্ঞঃ কর্ম্মসমুদ্ভবঃ।।১৪
কর্ম্ম ব্রহ্মোদ্ভবং বিদ্ধি ব্রহ্মাক্ষরসমুদ্ভবম্।
তস্মাৎ সর্ব্বগতং ব্রহ্ম নিত্যং যজ্ঞে প্রতিষ্ঠিতম্।।১৫
এবং প্রবর্ত্তিতং চক্রং নানুবর্ত্তয়তীহ যঃ।
অঘায়ুরিন্দ্রিয়ারামো মোঘং পার্থ স জীবতি।।১৬

অন্ন খেয়ে প্রাণীগন জীবন ধারন করেন, বৃষ্টি হওয়ার ফলে অন্ন উত্পাদন হয়, যজ্ঞ অনুষ্ঠান করার ফলে বৃষ্টি হয়, শাস্ত্রক্ত কর্ম থেকে যজ্ঞ উত্পন্ন হয়।

অর্থঃ-(১৪,১৫,১৬) প্রাণিসকল অন্ন হইতে উৎপন্ন হয়, মেঘ হইতে অন্ন জন্মে, যজ্ঞ হইতে মেঘ জন্মে, কর্ম্ম হইতে যজ্ঞের উৎপত্তি, কর্ম্ম বেদ হইতে উৎপন্ন জানিও এবং বেদ পরব্রহ্ম হইতে সমুদ্ভূত; সেই হেতু সর্ব্বব্যাপী পরব্রহ্ম সদা যজ্ঞে প্রতিষ্ঠিত আছেন। এইরূপে প্রবর্ত্তিত জগচ্চক্রের যে অনুবর্ত্তন না করে (অর্থাৎ যে যজ্ঞাদি কর্ম্মদ্বারা এই সংসার-চক্র জগচ্চক্রের যে অনুবর্ত্তন না করে (অর্থাৎ যে যজ্ঞাদি কর্মদ্বারা এই সংসার-চক্র পরিচালনের সহায়তা না করে) সে ইন্দ্রিয়সুখাসক্ত ও পাপজীবন; হে পার্থ, সে বৃথা জীবন ধারণ করে।

Enlightened individuals are liberated from all types of impiety by accepting the remnants of foodstuffs offered in sacrifice. However, those who only cook for themselves perpetuate their own bondage. 3.14 

 

कर्म ब्रह्मोद्भवं विद्धि ब्रह्माक्षरसमुद्भवम् ।

तस्मात्सर्वगतं ब्रह्म नित्यं यज्ञे प्रतिष्ठितम् ॥ ३-१५॥

কর্ম ব্রহ্ম উদ্ভবম্ বিদ্ধি ব্রহ্ম অক্ষর সমুদ্ভবম্ ।
তস্মাত্ সর্বগতম্ ব্রহ্ম নিত্যম্ যজ্ঞে প্রতিষ্ঠিতম্ ।।১৫

যজ্ঞাদি কর্ম বেদ থেকে উদ্ভব হয়েছে এবং বেদ অক্ষর ভগবান থেকে প্রকাশিত হয়েছে। অতএব সর্বব্যপক ব্রহ্ম সর্বদা যজ্ঞে প্রতিষ্টিত আছেন।

karma brahmodbhavan viddhi brahmakshara-samudbhavam One should know that prescribed activities originate from the Vedas, and the Vedas originate from the imperishable Absolute Truth. Thus, the omnipresent Absolute Truth is eternally present within acts of sacrifice. 3.15

 

एवं प्रवर्तितं चक्रं नानुवर्तयतीह यः ।

अघायुरिन्द्रियारामो मोघं पार्थ स जीवति ॥ ३-१६॥

এবম্ প্রবর্তিতম্ চক্রম্ ন অনুবর্তয়তি ইহ যঃ ।
অঘায়ূঃ ইন্দ্রিয়ারামঃ মোঘম্ পার্থ সঃ জীবতী ।।১৬

হে অর্জুন যে ব্যক্তি এই প্রকারে ভগবান কতৃক প্রবর্তিত যজ্ঞ অনুষ্ঠানের পন্থা অনুস্বরন করে না, সেই ইন্দ্রিয় সুখপরায়ন পাপী ব্যক্তি বৃথা জীবন ধারন করে।

O Partha, one who lives in this world but does not accept the Vedic system, lives an impious life in pursuit of sense pleasure – thus he lives his life in vain. 3.16

 

यस्त्वात्मरतिरेव स्यादात्मतृप्तश्च मानवः ।

आत्मन्येव च सन्तुष्टस्तस्य कार्यं न विद्यते ॥ ३-१७॥
যঃ তু আত্মরতিঃ এব স্যাত্ আত্মতৃপ্তঃ চ মানবঃ ।
আত্মনি এব চ সনতুষ্টঃ তস্য কার্য্যম্ ন বিদ্যতে ।।১৭

যস্ত্বাত্মরতিরেব স্যাদাত্মতৃপ্তশ্চ মানবঃ।
আত্মন্যেব চ সন্তুষ্টস্তস্য কার্য্যং ন বিদ্যতে।।১৭

যে ব্যক্তি আত্মাতে প্রীত আত্মাতেই তৃপ্ত আত্মতেই সন্তুষ্ট তার কোন কর্তব্য নেই।

কিন্তু যিনি কেবল আত্মাতেই প্রীত, যিনি আত্মাতেই তৃপ্ত, যিনি কেবল আত্মাতেই সন্তুষ্ট থাকেন, তাঁহার নিজের কোন প্রকার কর্ত্তব্য নাই।

However, for one who finds pleasure in the self, there is no duty to fulfill. He rejoices in the self, and internally is completely self-satisfied. 3.17

 

नैव तस्य कृतेनार्थो नाकृतेनेह कश्चन ।

न चास्य सर्वभूतेषु कश्चिदर्थव्यपाश्रयः ॥ ३-१८॥

ন এব তস্য কৃতেন অর্থ ন অকৃতেন ইহ কশ্চন ।
ন চ তস্য সর্ব ভূতেষু কশ্চিত্ অর্থ ব্যপাশ্রয়ঃ ।।১৮

নৈব তস্য কৃতেনার্থো নাকৃতেনেহ কশ্চন।
ন চাস্য সর্ব্বভূতেষু কশ্চিদর্থব্যপাশ্রয়ঃ।।১৮

আত্মনন্দ অনুভবকারি ব্যক্তির ইহজগতে ধর্ম অনুষ্ঠানের কোন প্রয়োজন নেই, এবং কর্ম না করারও কোন কারন নেই।তাকে অন্য কোন প্রাণীর উপর নির্ভর করতেও হয় না।

যিনি আত্মারাম তাঁহার কর্মানুষ্ঠানে কোন প্রয়োজন নাই, কর্ম্ম হইতে বিরত থাকারও কোন প্রয়োজন নাই। সর্ব্বভূতের মধ্যে কাহারও আশ্রয়ে তাঁহার প্রয়োজন নাই (তিনি কাহারও আশ্রয়ে সিদ্ধকাম হইবার আবশ্যকতা রাখেন না)।

In this world, he neither gains by action, nor gains by inaction. Neither does he depend upon any other person. 3.18

 

तस्मादसक्तः सततं कार्यं कर्म समाचर ।

असक्तो ह्याचरन्कर्म परमाप्नोति पूरुषः ॥ ३-१९॥

তস্মাত্ অসক্তঃ সততম্ কার্যম্ কর্ম সমাচর ।
        অসক্তঃ হি আচরন কর্ম পরম্ আপ্নোতি পুরুষঃ ।।১৯

তস্মাদসক্তঃ সততং কার্যং কর্ম্ম সমাচর।
অসক্তো হ্যাচরন্ কর্ম্ম পরমাপ্নোতি পুরুষঃ।।১৯

অতএব কর্মফলের প্রতি আসক্তি রহিত হয়ে কর্তব্য কর্ম সম্পাদন কর, অনাসক্ত হয়ে কর্ম করার ফলেই পরা ভক্তি লাভ করা যায়।

) অতএব তুমি আসক্তিশূন্য হইয়া সর্ব্বদা কর্ত্তব্য কর্ম্ম সম্পাদন কর, কারণ অনাসক্ত হইয়া কর্মানুষ্ঠান করিলে পুরুষ পরমপদ (মোক্ষ) প্রাপ্ত হন।

Therefore, continue to perform your prescribed duties perfectly without attachment to the results. By acting without attachment one attains the Absolute. 3.19

 

कर्मणैव हि संसिद्धिमास्थिता जनकादयः ।

लोकसङ्ग्रहमेवापि सम्पश्यन्कर्तुमर्हसि ॥ ३-२०॥

কর্মনা হি সংসিদ্ধিম্ আস্থিতাঃ জনকাদয়ঃ ।
লোকসংগ্রহম্ এব অপি সংপশ্যন কর্তুম্ অর্হসি ।।২০

কর্ম্মণৈব হি সং সিদ্ধিমাস্থিতা জনকাদয়ঃ।
লোকসংগ্রহমেবাপি সংপশ্যন্ কর্ত্তুমর্হসি।।২০

জনক প্রভৃতি মহারাজরাও কর্ম দ্বারা ভক্তিরুপ সংসিদ্ধি প্রাপ্তি হয়েছিল, অতএব জনসাধারনকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য তোমার কর্ম করা উচিত্।

জনকাদি মহাত্মারা কর্ম্ম দ্বারাই সিদ্ধিলাভ করিয়াছেন। লোকরক্ষার দিকে দৃষ্টি রাখিয়াও তোমার কর্ম্ম করাই কর্ত্তব্য।

In the past, kings such as Janaka and others attained perfection by performing their prescribed duties. In order to set a proper example to the people in general, you should also act appropriately. 3.20

 

यद्यदाचरति श्रेष्ठस्तत्तदेवेतरो जनः ।

स यत्प्रमाणं कुरुते लोकस्तदनुवर्तते ॥ ३-२१॥

           যত্ যত্ আচরতি শ্রেষ্ঠ তত্ তত্ এব ইতর জনঃ ।
        সঃ যত্ প্রমানম্ কুরুতে লোকঃ তত্ অনুবর্ততে ।।২১

যদ্ যদাচরতি শ্রেষ্ঠস্তত্তদেবেতরো জনঃ।
স যৎ প্রমাণং কুরুতে লোকস্তদনুবর্ত্ততে।।২১

শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিরা যে ভাবে আচরন করেন সাধারন মানুষেরাও তার অনুকরন করেন। তিনি যা প্রমান বলে স্বীকার করেন অন্য লোকে তারই অনুকরন করে।

শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি যাহা যাহা অচরণ করেন, অপর সাধারণেও তাহাই করে। তিনি যাহা প্রামাণ্য বলিয়া বা কর্ত্তব্য বলিয়া গ্রহণ করেন, সাধারণ লোকে তাহারই অনুবর্ত্তন করে।

However a great man conducts himself, common men will follow. Accordingly, whatever standards he sets by his actions, others will follow in his footsteps. 3.21

 

न मे पार्थास्ति कर्तव्यं त्रिषु लोकेषु किञ्चन ।

नानवाप्तमवाप्तव्यं वर्त एव च कर्मणि ॥ ३-२२॥

        ন মে পার্থ অস্তি কর্তব্যম্ ত্রিষু লোকেষু কিঞ্চন ।
        ন অনবাপ্তম্ অবাপ্তব্যম্ বর্ত এব চ কর্মণি ।।২২

ন মে পার্থাস্তি কর্ত্তব্যং ত্রিষু লোকেষু কিঞ্চন।
নানবাপ্তমবাপ্তব্যং বর্ত্ত এব চ কর্ম্মণি।।২২

হে পার্থ এই ত্রিজগতে আমার কিছুই কর্তব্য নেই। আমার অপ্রাপ্ত কিছু নেই এবং প্রাপ্তব্যও কিছু নেই তবুও আমি কর্মে ব্যপৃত আছি।

হে পার্থ, ত্রিলোক মধ্যে আমার করণীয় কিছু নাই, অপ্রাপ্ত বা প্রাপ্তব্য কিছু নাই, তথাপি আমি কর্মানুষ্ঠানেই ব্যাপৃত আছি।

O Arjuna, son of Pritha, I have no duty to perform whatsoever in the three worlds. I lack nothing nor do I need to gain anything ­ yet I still engage in activities. 3.22

 

यदि ह्यहं न वर्तेयं जातु कर्मण्यतन्द्रितः ।

मम वर्त्मानुवर्तन्ते मनुष्याः पार्थ सर्वशः ॥ ३-२३॥

    যদি হি অহম্ ন বর্তেয়ম্ জাতু কর্মনি অতন্দ্রিতঃ ।
  মম্ বর্ত্ম অনুবর্তন্তে মনুষ্যাঃ পার্থ সর্বশঃ ।।২৩

যদি হ্যহং ন বর্ত্তেয় জাতু কর্ম্মণ্যতন্দ্রিতঃ।
মম বর্ত্মানুবর্ত্তন্তে মনুষ্যাঃ পার্থ সর্ব্বশঃ।।২৩

হে পার্থ আমি যদি অলস হয়ে শুভকর্মে প্রবৃত্ত না হই তবে আমার অনুবর্তি হয়ে সমস্ত মানুষই কর্ম ত্যাগ করবে।

হে পার্থ, যদি অনলস হইয়া কর্মানুষ্ঠান না করি, তবে মানবগণ সর্ব্বপ্রকারে আমারই পথের অনুবর্ত্তী হইবে। (কেহই কর্ম্ম করিবে না)।

If I avoid activity then all men will follow in My footsteps and neglect their prescribed duties, O Partha. 3.23

 

उत्सीदेयुरिमे लोका न कुर्यां कर्म चेदहम् ।

सङ्करस्य च कर्ता स्यामुपहन्यामिमाः प्रजाः ॥ ३-२४॥

উত্সীদেয়ু ইমে লোকাঃ ন কুর্যাম্ কম চেত্ অহম্ । 

সঙ্করস্য চ কর্তা স্যাম উপহন্যাম্ ইমে প্রজাঃ ।।২৪

উৎসীদেয়ুরিমে লোকা ন কুর্য্যাং কর্ম্ম চেদহম্।
সঙ্করস্য চ কর্ত্তা স্যামুপহন্যামিমাঃ প্রজাঃ।।২৪

আমি যদি কর্ম না করি সমস্ত লোক উত্সন্ন হবে। আমি বর্নসঙ্কর আদি সামাজিক বিশৃঙ্খলার কারন হব এবং তার ফলে সমস্ত প্রজা বিনষ্ট হবে।

যদি আমি কর্ম্ম না করি তাহা হইলে এই লোক সকল উৎসন্ন যাইবে। আমি বর্ণ-সঙ্করাদি সামাজিক বিশৃঙ্খলার হেতু হইব এবং ধর্ম্মলোপহেতু প্রজাগণের বিনাশের কারণ হইব।

If I do not act properly, then the general populace will be ruined and I will be the cause of unwanted progeny. In this way I will cause the destruction of all beings. 3.24

 

सक्ताः कर्मण्यविद्वांसो यथा कुर्वन्ति भारत ।

कुर्याद्विद्वांस्तथासक्तश्चिकीर्षुर्लोकसङ्ग्रहम् ॥ ३-२५॥

     সক্তা কর্মনি অবিদ্ধাংসঃ যথা কুর্বন্তি ভারত ।
        কুর্যাত্ বিদ্ধান তথা অসক্তঃ চিকীর্ষুঃ লোক সংগ্রহম্ ।২৫।

সক্তাঃ কর্ম্মণ্যবিদ্বাংসো যথা কুর্ব্বন্তি ভারত।
কুর্য্যাদ্বিদ্বাংস্তথাসক্তশ্চিকীর্ষুর্লোকসংগ্রহম্।।২৫

হে ভারত অজ্ঞানিরা যেমন কর্ম ফলের প্রতি আসক্ত হয়ে তাদের কর্তব্য কর্ম করে তেমনী জ্ঞানিরা অনাসক্ত হয়ে প্রকৃত পথে মানুষকে পরিচালিত করার জন্য কর্ম করেন।

অর্থঃ-(২৫) হে ভারত, অজ্ঞ ব্যক্তিরা কর্ম্মে আসক্তিবিশিষ্ট হইয়া যেরূপ কর্ম করিয়া থাকে, জ্ঞানী ব্যক্তিরা অনাসক্ত চিত্তে লোকরক্ষার্থে সেইরূপ কর্ম্ম করিবেন।

O descendent of Bharata, just as the ignorant are attached to their activities, similarly the wise must also work, but without attachment, for the welfare of all. 3.25

 

न बुद्धिभेदं जनयेदज्ञानां कर्मसङ्गिनाम् ।

जोषयेत्सर्वकर्माणि विद्वान्युक्तः समाचरन् ॥ ३-२६॥

ন বুদ্ধি ভেদম্ জনয়েত্ অজ্ঞানাম্ কর্মসংঙ্গিনাম্ ।
জোযয়েত্ সর্ব কর্মানি বিদ্বান যুক্তঃ সমাচরম্ ।।২৬

ন বুদ্ধিভেদং জনয়েদজ্ঞানাং কর্ম্মসঙ্গিনাম্।
যোজয়েৎ সর্ব্বকর্ম্মাণি বিদ্বান্ যুক্তঃ সমাচরন্।।২৬

জ্ঞানবান ব্যক্তিরা কর্মাসক্ত জ্ঞানহীন ব্যক্তিদের বুদ্ধি বিভ্রান্ত করে ন। তারা ভক্তিযুক্ত চিত্তে সমস্ত কর্ম অনুষ্ঠান করে জ্ঞানহীন ব্যক্তিদের কর্মে প্রবৃত্তি করে।

-(২৬) জ্ঞানীরা কর্মে আসক্ত অজ্ঞানদিগের বুদ্ধিভেদ জন্মাইবেন না। আপনারা অবহিত হইয়া সকল কর্ম অনুষ্ঠান করিয়া তাহাদিগকে কর্ম্মে নিযুক্ত রাখিবেন।

The wise should not disturb the minds of the ignorant who are attached to their selfish activities. Rather, remaining unattached and fully executing their duties, they should encourage the ignorant and engage them in pious activities. 3.26

 

प्रकृतेः क्रियमाणानि गुणैः कर्माणि सर्वशः ।

अहङ्कारविमूढात्मा कर्ताहमिति मन्यते ॥ ३-२७॥

প্রকৃতেঃ ক্রিয়া মানানি গুনৈঃ কর্মানি সর্বশঃ ।
অহংঙ্কার বিমুঢ় আত্মা কর্তা অহম্ ইতি মন্যতে ।।২৭

প্রকৃতেঃ ক্রিয়মাণানি গুণৈঃ কর্ম্মাণি সর্ব্বশঃ।
অহঙ্কারবিমূঢ়াত্মা কর্ত্তাহমিতি মন্যতে।।২৭

মোহাচ্ছন্ন জীব প্রাকৃত অহংঙ্কার বশত জড়া প্রকৃতির ত্রিগুন দ্বারা ক্রিয়মান সমস্ত কার্য্যকে স্বীয় কার্যবলে মনে করে আমি কর্তা এই রকম অভিমান করে।

প্রকৃতির গুণসমূহদ্বারা সর্ব্বতোভাবে কর্মসকল সম্পন্ন হয়। যে অহঙ্কারে মুগ্ধচিত্ত সে মনে করে আমিই কর্ত্তা।

All activities are performed by the modes of nature. But those who are deluded by the false identification of the body think, “I am the doer.” 3.27

 

तत्त्ववित्तु महाबाहो गुणकर्मविभागयोः ।

गुणा गुणेषु वर्तन्त इति मत्वा न सज्जते ॥ ३-२८॥

        তত্তবিত্ তু মহাবাহো গুনকর্ম বিভাগয়োঃ ।
        গুনাঃ গুনেষু বর্তন্তে ইতি মত্বা ন সজ্জতে ।।২৮

তত্ত্ববিত্তু মহাবাহো গুণকর্ম্মবিভাগয়োঃ।
গুণা গুণেষু বর্ত্তন্ত ইতি মত্বা ন সজ্জতে।।২৮

হে মহাবাহো তত্তজ্ঞ ব্যক্তি ভগবদ্ভক্তিমুখী কর্ম এবং সকাম কর্মের পার্তক্য ভালভবে অবগত হয়ে কখনো ইন্দ্রিয় সুখ ভোগাত্মক কার্য্যে প্রবৃত্ত হন না।

(২৮) কিন্তু হে মহাবাহো! যিনি সত্ত্বরজস্তমোগুণ ও মন, বুদ্ধি ইন্দ্রিয়াদির বিভাগ ও উহাদের পৃথক্ পৃথক্ কর্ম্ম-বিভাগ তত্ত্ব জানিয়াযছেন, তিনি ইন্দ্রিয়াদি ইন্দ্রিয়বিষয়ে প্রবৃত্ত আছে ইহা জানিয়া কর্ম্মে আসক্ত হন না, কর্ত্তৃত্বাভিমান করেন না।

Yet, O mighty-armed one, one who is a knower of the truth concerning action and the modes of material nature, understands that it is the modes interacting with one another and thus he remains unattached. 3.28

 

प्रकृतेर्गुणसम्मूढाः सज्जन्ते गुणकर्मसु ।

तानकृत्स्नविदो मन्दान्कृत्स्नविन्न विचालयेत् ॥ ३-२९॥

প্রকৃতৈঃ গুন সংমূঢ়া সজ্জন্তে গুনকর্মষু ।
      তান অকৃত্স্নবিদঃ মন্দান্ কৃত্স্নবিত্ ন বিচাল্যতে ।।২৯

প্রকৃতের্গুণসংমুঢ়াঃ সজ্জন্তে গুণকর্ম্মসু।
তানকৃৎস্নবিদো মন্দান্ কৃতস্নবিন্ন বিচালয়েৎ।।২৯

জড়া প্রকৃতির ত্রিগুনের দ্বারা মোহাচ্ছন্ন হয়ে অজ্ঞান ব্যক্তিরা জাগতিক কার্য্য কলাপে প্রবৃত্ত হয়। কিন্তু তাদের সেইকর্ম নিকৃষ্ট হলেও তত্তজ্ঞানি পুরুষেরা তাদের বিচলিত করে না।

৯) যাহারা প্রকৃতির গুণে মোহিত তাহারা দেহেন্দ্রিয়াদি কর্ম্মে আসক্তিযুক্ত হয়; সেই সকল অল্পবুদ্ধি মন্দমতিদিগকে জ্ঞানিগণ কর্ম্ম হইতে বিচালিত করিবেন না।

Those bewildered by the modes of material nature are engrossed in material activities conducted by those modes. The wise should not disturb the ignorant who are bereft of proper knowledge. 3.29

 

मयि सर्वाणि कर्माणि संन्यस्याध्यात्मचेतसा ।

निराशीर्निर्ममो भूत्वा युध्यस्व विगतज्वरः ॥ ३-३०॥

ময়ি সর্বানি কর্মানি সংনস্য অধ্যাত্ম চেতসা ।
নিরাশীঃ নির্মমঃ ভূত্বা যুধ্যস্য বিগতজ্বরঃ ।।৩০

ময়ি সর্ব্বাণি কর্ম্মাণি সংন্যস্যাধ্যাত্মচেতসা।
নিরাশীর্নির্ম্মমো ভূত্বা যুধ্যস্ব বিগতজ্বরঃ।।৩০

হে অর্জুন তোমার সমস্ত কর্ম আমাকে সমর্পন করে আধ্যত্ম চেতনা সম্পন্ন হয়ে মমতা শুন্য নিস্কাম ও শোক শুন্য হয়ে যুদ্ধ কর।

কর্ত্তা ঈশ্বর, তাঁহারই উদ্দেশ্যে ভৃত্যবৎ কর্ম্ম করিতেছি, এইরূপ বিবেকবুদ্ধি সহকারে সমস্ত করম্ম আমাতে সমর্পণ করিয়া কামনাশূন্য ও মমতাশূন্য হইয়া শোকত্যাগপূর্ব্বক তুমি যুদ্ধ কর।

Completely surrendering all your activities unto Me, with your consciousness fully situated in the self, without any selfish motivation, without any sense of ownership, without grief – fight! 3.30

 

ये मे मतमिदं नित्यमनुतिष्ठन्ति मानवाः ।

श्रद्धावन्तोऽनसूयन्तो मुच्यन्ते तेऽपि कर्मभिः ॥ ३-३१॥

যে মে মতম্ ইদম্ নিত্যম অনুতিষ্ঠন্তি মানবাঃ ।
শ্রদ্ধাবন্ত অনুসুয়ন্ত মূচ্যন্তে তে অপি কর্মভিঃ ।।৩১

যে মে মতমিদং নিত্যমনুতিষ্ঠন্তি মানবাঃ।
শ্রদ্ধাবন্তোহনসূয়ন্তো মূচ্যন্তে তেহপি কর্ম্মভিঃ।।৩১

আমার নির্দ্দেশ অনুসারে শ্রদ্ধাবান এবং মাত্সর্য রহিত যিনি তার কর্তব্যকর্ম অনুষ্ঠান করেন, তিনি কর্ম বন্ধন থেকে মুক্তহন।

যে মানবগণ শ্রদ্ধাবান ও অসূয়াশূন্য হইয়া আমার এই মতের অনুষ্ঠান করে, তাহারাও কর্ম্মবন্ধন হইতে মুক্ত হয়।

Those that faithfully follow these instructions of Mine without envy will become free from the bondage of actions. 3.31

 

ये त्वेतदभ्यसूयन्तो नानुतिष्ठन्ति मे मतम् ।

सर्वज्ञानविमूढांस्तान्विद्धि नष्टानचेतसः ॥ ३-३२॥

যে তু অভ্যসুয়ন্ত ন অনুতিষ্ঠন্তি মে মতম্ ।
সর্বজ্ঞান বিমূঢ়ান তান বিদ্ধি নষ্টান অচেতসাঃ ।।৩২

যে ত্বেতদভ্যসুয়ন্তো নানুতিষ্ঠন্তি মে মতম্।
সর্ব্বজ্ঞানবিমুঢ়াংস্তান্ বিদ্ধি নষ্টানচেতসঃ।।৩২

কিন্ত যারা অসুয়া পুর্বক আমার এই উপদেশ পালন করে না তাদের সমস্ত জ্ঞান থেকে বঞ্চিত বিমূঢ় এবং পরমার্থ লাভের সকল প্রচেষ্টা থেকে ভ্রষ্ট বলে জানবে।

যাহারা অসূয়াপরবশ হইয়া আমার এই মতের অনুষ্ঠান করে না, সেই বিবেকহীন ব্যক্তিগণকে সর্ব্বজ্ঞান-বিমূঢ় ও বিনষ্ট বলিয়া জানিও।

However, you should know that those persons who, out of envy, do not follow My instructions are deprived of all knowledge. They have lost sight of the goal of life and are bereft of intelligence. 3.32

 

सदृशं चेष्टते स्वस्याः प्रकृतेर्ज्ञानवानपि ।

प्रकृतिं यान्ति भूतानि निग्रहः किं करिष्यति ॥ ३-३३॥

সদৃশম্ চেষ্টতে সস্ব্যাঃ প্রকৃতেঃ জ্ঞানবান অপি ।
   প্রকৃতিম্ যান্তি ভূতানি নিগ্রহঃ কিম্ করিষ্যতি ।।৩৩

সদৃশং চেষ্টতে স্বস্যাঃ প্রকৃতের্জ্ঞানবানপি।
প্রকৃতিং যান্তি ভূতানি নিগ্রহঃ কিং করিষ্যতি।।৩৩

গুনবান ব্যক্তিও তার প্রকৃতি অনুসারে কার্যকরেন কারন সকলেই তাদের স্বীয় স্বভাবকে অনুগমন করেন। সুতরাং দমন করে কি লাভ হবে?

জ্ঞানবান্ ব্যক্তিও নিজ প্রকৃতির অনুরূপ কর্ম্মই করিয়া থাকেন। প্রাণিগণ প্রকৃতিরই অনুসরণ করে; ইন্দ্রিয়-নিগ্রহে কি করিবে?

Even a wise man acts according to his nature. All living beings act according to their natures, for what can repression achieve? 3.33

 

इन्द्रियस्येन्द्रियस्यार्थे रागद्वेषौ व्यवस्थितौ ।

तयोर्न वशमागच्छेत्तौ ह्यस्य परिपन्थिनौ ॥ ३-३४॥

ইন্দ্রিয়স্য ইন্দ্রিয়স্যার্থে রাগ দেষৌ ব্যবস্থিতৌ ।
      তয়োঃ ন বশম্ আগচ্ছেত্ তৌ হি অস্য পরিপন্থিনৌ ।।৩৪

ইন্দ্রিয়স্যেন্দ্রিয়স্যার্থে রাগদ্বেষৌ ব্যবস্থিতৌ।
তয়োর্ন বশমাগচ্ছেৎ তৌ হ্যস্য পরিপন্থিনৌ।।৩৪

সমস্ত জীবই ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তুতে আসক্তি অথবা বিরক্তি অনুভব করে, কিন্তু এইভাবে ইন্দ্রিয় এবংইন্দ্রিয়ের বিষয়ের বশীভুত হওয়া উচিত্ নয়, কারন তা পারমার্থিক প্রগতির পথে প্রতিবন্ধক।

৩৪) সকল ইন্দ্রিয়েরই স্ব স্ব বিষয়ে রাগদ্বেষ অবশ্যম্ভাবী। ঐ রাগদ্বেষের বশীভূত হইও না; উহারা জীবের শত্রু (অথবা, শ্রেয়োমার্গের বিঘ্নকারক)।

The senses are attracted to and repelled by the objects of the senses. But one must not become controlled by such attraction or aversion for they are obstacles. 3.34

 

श्रेयान्स्वधर्मो विगुणः परधर्मात्स्वनुष्ठितात् ।

स्वधर्मे निधनं श्रेयः परधर्मो भयावहः ॥ ३-३५॥

শ্রেয়ান স্বধর্মঃ বিগুনঃ পরধর্মাত্ স্বনুষ্ঠিতাত্ ।
স্বধর্মে নিধনম্ শ্রেয়ঃ পরধর্মঃ ভয়বহঃ ।।৩৫

শ্রেয়ান্ স্বধর্ম্মো বিগুণঃ পরধর্ম্মাৎ স্বনুষ্ঠিতাৎ।
স্বধর্ম্মে নিধনং শ্রেয়ঃ পরধর্ম্মো ভয়াবহঃ।।৩৫


স্বধর্মের অনুষ্ঠান দোষযুক্ত হলেও উত্তমরুপে অনুষ্ঠিত পরধর্ম থেকে উত্কৃষ্ট। স্বধর্ম সাধনে যদি মৃত্যু হয় তাও মঙ্গল জনক কি অন্যের ধর্মের অনুষ্ঠান করা বিপদ জনক।

স্বধর্ম্ম কিঞ্চিদ্দোষবিশিষ্ট হইলেও উহা উত্তমরূপে অনুষ্ঠিত পরধর্ম্মাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। স্বধর্ম্মে নিধনও কল্যাণকর, কিন্তু পরধর্ম গ্রহণ করা বিপজ্জনক।

It is better to perform one’s own prescribed duties imperfectly rather than perform another’s duties perfectly. It is better to die while performing one’s own duties, for executing the duties of others is fraught with uncertainty. 3.35

 

        अर्जुन उवाच ।

अथ केन प्रयुक्तोऽयं पापं चरति पूरुषः ।

अनिच्छन्नपि वार्ष्णेय बलादिव नियोजितः ॥ ३-३६॥


অর্জুন উবাচ

অথ কেন প্রযুক্ত অয়ম্ পাপম্ চরতি পুরুষ ।
     অনিচ্ছন অপি বাঞ্চেয় বলাত্ ইব নিয়োজিত ।৩৬।

 

অর্জ্জুন উবাচ –
অথ কেন প্রযুক্তোহয়ং পাপং চরতি পুরুষঃ।
অনিচ্ছন্নপি বার্ষ্ণেয় বলাদিব নিয়োজিতঃ।।৩৬

অর্থঃ-(৩৬) অর্জ্জুন কহিলেন – হে কৃষ্ণ, লোকে কাহাদ্বারা প্রযুক্ত হইয়া অনিচ্ছা-সত্ত্বেও যেন বলপুর্ব্বক নিয়োজিত হইয়াই পাপাচরণ করে।


অর্জুন বললেন হে বার্ঞ্চেয়, মানুষ কারদ্বারা চালিত হয়ে অনিচ্ছা সত্তেও যেন বলপুর্বক নিয়োজিত হয়েই পাপাচারনে প্রবৃত্তহয়?

Arjuna asked: O Krishna, descendant of the Vrishnis, what is it that makes a man perform impious activities even against his will, as if by force? 3.36

 

        श्रीभगवानुवाच ।

काम एष क्रोध एष रजोगुणसमुद्भवः ।

महाशनो महापाप्मा विद्ध्येनमिह वैरिणम् ॥ ३-३७॥

ভগবান উবাচ
কাম এষঃ ক্রোধ এষঃ রজোগুন সমুদ্ভবম্ ।
মহাশনঃ মহাপাপ্না বিদ্ধি এনম্ ইহ বৈরিনম্ ।৩৭।

 

শ্রীভগবান্ উবাচ –
কাম এষ ক্রোধ এষ রজোগুণসমুদ্ভবঃ।
মহাশনো মহাপাপ্মা বিদ্ধ্যেনমিহ বৈরিণম্।।৩৭

অর্থঃ-(৩৭) ইহা কাম, ইহাই ক্রধ। ইহা রজোগুণোৎপন্ন, ইহা দুস্পুরণীয় এবং অতিশয় উগ্র। ইহাকে সংসারে শত্রু বলিয়া জানিবে।

ভগবান বললেন হেঅর্জুন রজোগুন থেকে কাম মানুষকে এই পাপে প্রবৃত্ত করে এবং এই কামই ক্রোধে পরিনত হয়। কাম হল সর্বগ্রাসী এবং পাপাত্মক; কামকেই জীবনের প্রধান শত্রু বলে জানবে।

Bhagavan Shri Krishna said: It is lust, which transforms into anger that is manifest from the mode of passion. Know this lust to be totally insatiable and extremely evil. It is the great enemy of this world. 3.37

 

धूमेनाव्रियते वह्निर्यथादर्शो मलेन च ।

यथोल्बेनावृतो गर्भस्तथा तेनेदमावृतम् ॥ ३-३८॥

ধুমেন আব্রিয়তে বহ্নিঃ যথা আদর্শঃ মলেন চ ।
যথা উল্বেন আবৃতঃ গর্ভঃ তথা তেন ইদম আবৃতম্ ।৩৮।

 

ধুমেনাব্রিয়তে বহ্নির্যথাদর্শো মলেন চ।
যথোল্বেনাবৃতো গর্ভস্তথা তেনেদমাবৃতম্।।৩৮

অর্থঃ-(৩৮) যেমন ধূমদ্বারা বহ্নি আবৃত থাকে, মলদ্বারা দর্পণ আবৃত হয়, জরায়ূদ্বারা গর্ভ আবৃত থাকে, সেইরূপ কামের দ্বারা জ্ঞান আবৃত থাকে। [বিষয়-বাসনা থাকিতে আত্মজ্ঞানের উদয় হয় না। যেমন ধূম অপসারিত হইলে অগ্নি প্রকাশিত হয়, ধূলিমল অপসারিত হইলে দর্পণের স্বচ্ছতা প্রতিভাত হয়, প্রসবের দ্বারা জরায়ূ প্রসারিত হইলে ভ্রুণের প্রকাশ হয়, সেইরূপ বিষয়-বাসনা বিদূরিত হলে তত্ত্বজ্ঞানের উদয় হয় (সংসারের ক্ষয় হয়)।]

অগ্নি যেমন ধুমদ্বরা আবৃত থাকে এবং দর্পন যেমন ময়লার দ্বারা আবৃত থাকে অথবা গর্ভ যেমন জরায়ুদ্বারা আবৃত্ত থাকে তেমনই জীব সত্ত্বা বিভিন্ন মাত্রায় এই কামের দ্বারা আবৃত্ত থাকে।

As a fire is covered by smoke, as a mirror is covered by dust, and as the womb covers an embryo, similarly, lust covers the consciousness of the living being. 3.38

 

आवृतं ज्ञानमेतेन ज्ञानिनो नित्यवैरिणा ।

कामरूपेण कौन्तेय दुष्पूरेणानलेन च ॥ ३-३९॥

আবৃতম্ জ্ঞানম এতেন জ্ঞানিনঃ নিত্য বৈরিনা ।
কামরুপেন কৌন্তেয় দুস্পুরেন অনলেন চ ।৩৯।

 

আবৃতং জ্ঞানমেতেন জ্ঞানিনো নিত্যবৈরিণা।
কামরূপেণ কৌন্তেয়! দুষ্পুরেণানলেন চ।।৩৯

অর্থঃ-(৩৯) হে কৈন্তেয়, জ্ঞানীদিগের নিত্যশত্রু এই দুস্পূরণীয় অগ্নিতুল্য কামদ্বারা জ্ঞান আচ্ছন্ন থাকে।

কামরুপি চিরশত্রু দ্বারা মানুষের শুদ্ধ চেতনা আবৃত্ত। এই কাম দুর্বারিত অগ্নির মত চির অতৃপ্ত।

O Kaunteya, the discrimination of even a wise man can become covered by this eternal nemesis in the form of lust that is like an all-devouring fire. 3.39

 

इन्द्रियाणि मनो बुद्धिरस्याधिष्ठानमुच्यते ।

एतैर्विमोहयत्येष ज्ञानमावृत्य देहिनम् ॥ ३-४०॥

ইন্দ্রিয়ানি মন বুদ্ধিঃ অস্য অধিষ্ঠানম্ উচ্যতে ।
এতৈঃ বিমোহয়তি এষঃ জ্ঞানম আবৃত্য দেহিনম্ ।৪০।

 

ইন্দ্রিয়াণি মনোবুদ্ধিরস্যাধিষ্ঠানমুচ্যতে।
এতৈর্ব্বিমোহয়ত্যেষ জ্ঞানমাবৃত্য দেহিনম্।।৪০

অর্থঃ-(৪০) ইন্দ্রিয়সকল, মন ও বুদ্ধি – ইহারা কামের অধিষ্ঠান বা আশ্রয়স্থান বলিয়া কথিত হয়। কাম ইহাদিগকে অবলম্বন করিয়া জ্ঞানকে আচ্ছন্ন করিয়া জীবকে মুগ্ধ করে।

ইন্দ্রিয় সমুহ মন এবং বুদ্ধি এই কামের আশ্রয়স্থল যার মাধ্যমে কাম জীবের প্রকৃত জ্ঞানকে আচ্ছন্ন করে তাকে বিভ্রান্ত করে।

It is said that the senses, mind and intelligence are the sitting places of this enemy. Covering one’s knowledge, it bewilders the embodied living being. 3.40

 

तस्मात्त्वमिन्द्रियाण्यादौ नियम्य भरतर्षभ ।

पाप्मानं प्रजहि ह्येनं ज्ञानविज्ञाननाशनम् ॥ ३-४१॥

    তস্মাত্ ত্বম্ ইন্দ্রিয়ানি আদৌ নিয়ম্য ভরতর্ষভ ।
        পাপমানম্ প্রজাহি হি এনম্ জ্ঞন বিজ্ঞান নাশনম্ ।৪১।

 

তস্মাৎ ত্বমিন্দ্রিয়াণ্যাদৌ নিয়ম্য ভরতর্ষভ।
পাপমানং প্রজহি হ্যেনং জ্ঞানবিজ্ঞাননাশনম্।৪১

অর্থঃ-(৪১) কাম, প্রবল শত্রু। ইন্দ্রিয়াদি উহার অবলম্বন বা আশ্রয়স্বরূপ। তুমি প্রথমে কামের অবলম্বন স্বরূপ ইন্দ্রিয়দিগকে জয় কর, তবেই কাম জয় করিতে পারিবে।

অতএব হে ভারত শ্রেষ্ট তুমি প্রথমে ইন্দ্রিয়গুলিকে নিয়ত্রিত করার মাধ্যমে জ্ঞান বিজ্ঞান নাশক পাপের প্রতিক রুপ কামকে বিনাশ কর।

Therefore, O noblest amongst the Bharatas, you must first bring the senses under control and eliminate lust, which is the embodiment of all impiety and the destroyer of knowledge and realization. 3.41

 

इन्द्रियाणि पराण्याहुरिन्द्रियेभ्यः परं मनः ।

मनसस्तु परा बुद्धिर्यो बुद्धेः परतस्तु सः ॥ ३-४२॥

         
      ইন্দ্রিয়ানি পরানি আহুঃ ইন্দ্রিয়েভ্যঃ পরম্ মনঃ ।
        মনসঃ তু পরা বুদ্ধিঃ যঃ বুদ্ধেঃ পরতঃ তু সঃ ।৪২।

 

ইন্দ্রিয়াণি পরাণ্যাহুরিন্দ্রিয়েভ্যঃ পরং মনঃ।
মনসস্তু পরা বুদ্ধির্যোবুদ্ধে পরতস্তু সঃ।।৪২

অর্থঃ-(৪২) ইন্দ্রিয়সকল শ্রেষ্ঠ বলিয়া কথিত হয়; ইন্দ্রিয়গণ অপেক্ষা মন শ্রেষ্ঠ; মন অপেক্ষা বুদ্ধি শ্রেষ্ঠ; বুদ্ধি হইতে যিনি শ্রেষ্ঠ তিনিই আত্মা।

স্থুলজড় পদার্থের থেকে ইন্দ্রিয়গুলি শ্রেয়,ইন্দ্রিয়ের থেকে মন শ্রেয় মন থেকে বুদ্ধি শ্রেয় এবং তিনি (আত্মা) সেই বুদ্ধি থেকেও শ্রেয়।

It is said by the wise that the senses are superior to the sense-objects, the mind is superior to the senses, and the intelligence is superior to the mind. Superior to the intelligence is the individual unit of consciousness. 3.42

 

एवं बुद्धेः परं बुद्ध्वा संस्तभ्यात्मानमात्मना ।

जहि शत्रुं महाबाहो कामरूपं दुरासदम् ॥ ३-४३॥

এবম্ বুদ্ধেঃ পরম বুদ্ধা সংস্তভ্য আত্মনম্ আত্মনা।
  জহী শত্রুম্ মহাবাহো কামরুপম্দুরাসদম্।৪৩।

 

এবং বুদ্ধে পরং বুদ্ধ সংস্তভ্যাত্মানমাত্মনা।
জহি শত্রুং মহাবাহো! কামরূপং দুরাসদং।।৪৩

অর্থঃ-(৪৩) অথবা নিজেই নিজেকে সংযত করিয়া কামরূপ দুর্জ্জয় শত্রুকে মারিয়া ফেল (লোকমান্য তিলক); অথবা, নিশ্চয়াত্মিকা বুদ্ধিদ্বারা মনকে নিশ্চল করিয়া কামরূপ দুর্জ্জয় শত্রু (কামকে) বিনাশ কর (স্বামিকৃত টীকা)।

হে মহাবির অর্জুন নিজেকে জড় ইন্দ্রীয়,মন এবং বুদ্ধির অতীত জেনে চিত্শক্তির দ্বারা নিকৃষ্ট বৃত্তিকে সংযত করে কামরুপ দুর্জয় শত্রুকে জয় কর।   

O mighty armed Arjuna, knowing the individual unit of consciousness to be superior to the intelligence, steady the mind with the pure intellect of the self and conquer this indomitable enemy in the form of lust. 3.43

 

ॐ तत्सदिति श्रीमद्भगवद्गीतासूपनिषत्सु

ब्रह्मविद्यायां योगशास्त्रे श्रीकृष्णार्जुनसंवादे

कर्मयोगो नाम तृतीयोऽध्यायः ॥ ३॥

ওঁতৎসদিতি শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাসু উপনিষৎসু ব্রহ্মবিদ্যায়াং যোগশাস্ত্রে শ্রীকৃষ্ণার্জুনসংবাদে কর্মযোগো নাম তৃতীয়োঽধ্যায়ঃ।।

ওঁ তৎ সৎ শ্রীমদ্ভগবদ্গীতারূপী উপনিষদ্ তথা ব্রহ্মবিদ্যাবিষয়ক যোগশাস্ত্রে শ্রীকৃষ্ণ-অর্জুন সংবাদে ‘কর্মযোগ’ নামক তৃতীয় অধ্যায় সম্পূর্ণ হল।